দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে কফির দামে রেকর্ড বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বাজারে কফির দাম বেড়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বাজারে কফির দাম বেড়ে দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। আগস্টে কফির দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধির হার হিসেবে এটি ১৯৯৭ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। মাসিক হিসাবে আগস্টে দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ, যা গত ১৪ বছরে সর্বোচ্চ। খবর সিএনএন।

দেশটিতে কফির দামের এ ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা উচ্চশুল্ক। বিশ্বের বৃহত্তম কফি আমদানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব উৎপাদনের ওপর নির্ভর করতে পারে না। ন্যাশনাল কফি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে দেশটিতে মোট কফি ব্যবহারের প্রায় ৯৯ শতাংশই আমদানিনির্ভর।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ব্রাজিল থেকে আমদানীকৃত কফিতে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য বলছে, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কফি সরবরাহকারী। ব্রাজিল থেকে কফি আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সর্বোচ্চ শুল্কহারগুলোর মধ্যে অন্যতম। ট্রাম্প প্রশাসন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিচার ও দণ্ডাদেশ নিয়ে ক্ষুব্ধ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বহুজাতিক অডিট ও কনসালটিং প্রতিষ্ঠান কেপিএমজির প্রধান অর্থনীতিবিদ ডায়ান স্বনক বলেন, ‘‌ব্রাজিলের ওপর গত মাসে আরোপিত ৫০ শতাংশ শুল্কের পূর্ণ প্রভাব খুচরা পর্যায়ে পৌঁছলে কফির দাম বর্তমান রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাবে। কফি উৎপাদনকারী অন্যান্য দেশ থেকেও আমদানিতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কলোম্বিয়া থেকে আসা কফিতে ১০ এবং ভিয়েতনাম থেকে আমদানিতে ২০ শতাংশ শুল্ক বসানো হয়েছে।

বড় ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে ছোট দোকান পর্যন্ত সবাই চেষ্টা করছে এ খরচ নিজেদের কাঁধে নিতে। তবে ক্রেতাদের জন্য বাড়তি খরচের চাপ বেড়েই চলেছে। জেএম স্মাকার কোম্পানি (ফোলজার্স ও ক্যাফে বুস্টেলোর প্রধান কোম্পানি) জানিয়েছে, আসন্ন শীতেই তৃতীয় দফায় কফির খুচরা দাম বাড়ানো হবে। এর আগে মে ও আগস্টে দাম বাড়ানো হয়েছিল।

স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দোকানও বাড়তি ব্যয় ভোক্তাদের ওপর চাপাচ্ছে। নিউ অরলিন্সের ‘ফ্রেঞ্চ ট্রাক কফি’ নামের একটি দোকান বিলে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ ভ্যাট যোগ করেছে।

তবে বৈশ্বিক কফি চেইন স্টারবাকস এখনো দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত আয়ের প্রতিবেদনে কোম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের ক্রয়নীতি অনুযায়ী শুল্কের প্রভাব বাজারের তুলনায় দেরিতে এসে পড়ে। ফলে ২০২৬ সালে দাম বাড়ার চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছবে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা আশা করছেন।

আরও